ঈসা মসীহ্ কি কখনো বলেছেন, “আমি আল্লাহ, আমাকে ইবাদত কর?”
যেহেতু, একজন মুসলিম কোরআনকে মানে এবং একজন খ্রিষ্টীয়ান বা ঈসায়ী কিতাবুল মোকাদ্দস বা বাইবেল মানে যেটি একজন মুসলিমের জন্যও আল্লাহর কিতাব হিসেবে মানা বাধ্যতামূলক। তাই নিজের সম্পূর্ণ আলোচনা কোরআন শরীফ ও কিতাবুল মোকাদ্দসের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হল।
এখানে বলে রাখা ভাল যে, কিতাবুল মোকাদ্দসের ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়ম হল ”তাওরাত শরীফ, জবুর শরীফ ও হযরত ঈসা মসীহের আগের নবীদের উপরে নাজিলকৃত কিতাবের” সমষ্টি। আর নিউ টেস্টামেন্ট বা নতুন নিয়ম হল “ইঞ্জিল শরীফ”।
এই বিষয়ে পরিষ্কার জ্ঞান না থাকলে এই তথ্যটুকু জেনে রাখা ভাল; আর তা হল: আপনি যখন তারিখ লিখছেন, খেয়াল করুন তখন তারিখের পাশে বাংলায় ’খ্রি. বা খ্রিষ্টাব্দ’ এবং ইংরেজী ‘AD’ লিখেন। জানেন কি কেন লেখেন? উত্তর হল: সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসের সময় দুই ভাবে বিভক্ত। আর এই বিভাজক হল যীশু খ্রিষ্টের বা ঈসা নবীর জন্ম সময় দিয়ে। ঈসার জন্মের পরের সময়ের জন্য বাংলায় খ্রিষ্টাব্দ মানে হলে ‘খ্রিষ্ট অব্দ বা খ্রিষ্টের সময়কাল’ যা ইংরেজী AD (from Latin – Anno Domini) যার মানে ”In the time of the Lord” লিখা হয় । তদ্রুপ ঈসার জন্মের আগের সময় বুঝাতে, বাংলায় খ্রিষ্টপূর্ব মানে হলে ‘খ্রিষ্টের জন্মের আগে’ যা ইংরেজী BC যার মানে ‘Before Christ’ লিখা হয় ।
ঈসার জন্মের আগে অর্থাৎ BC-তে যে কিতাবগুলো নাজিল হয়েছে যথা তৌরাত, জবুর ও অনান্য নবীদের কিতাব তা একসঙ্গে ‘পুরাতন নিয়ম’ বা ‘Old Testament’ বলা হয়। ‘পুরাতন নিয়ম’ বা ‘Old Testament’ মানে সেটি পুরাতন বা বাতিল বোঝায় না। ঈসার মধ্যে দিয়ে একটি নতুন সময় শুরু হয়েছিল তাই তার আগের সময়কে পুরাতন বা আগেরকার সময় বলা হত। সেই অনুসারে কিতাবগুলোকে একসঙ্গে ‘পুরাতন নিয়ম’ বা ‘Old Testament’ বলা হয়। এটি সম্পূর্ণই সময়ের ভিত্তিতে নামকরণ করা হয়েছে। আর ঈসার জন্মের পরে অর্থাৎ ‘AD’ -তে যে কিতাব নাজিল হয়েছে যথা ইঞ্জিল তাকে ‘নতুন নিয়ম’ বা ‘New Testament’ বলা হয়।
যাই হোক, আমাদের মূল বিষয়ে ফিরে আসি। উপরের প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য আমরা নিজেদেরকে আরো কয়েকটি প্রশ্ন করব এবং কিতাব সেই বিষয়ে কি বলে তা দেখব। আসুন ধৈর্য সহকারে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর কিতাব থেকে দেখি, তাতে আমাদের উত্তর পাওয়া হয়ে যাবে।
প্রশ্ন ১: কে “প্রথম এবং শেষ”?
“তিনিই (আল্লাহ) প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।”
কোরআন শরীফ সুরা হাদীদ ৫৭:৩
মাবুদ, যিনি ইসরাইলের বাদশাহ্ ও মুক্তিদাতা, যিনি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন, তিনি এই কথা বলছেন, ‘আমিই প্রথম ও আমিই শেষ; আমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই।’
ওল্ড টেস্টামেন্ট এর নবীদের কিতাব সুরা ইশাইয়া রুকু ৪৪ আয়াত ৬
প্রশ্ন: যেহেতু আল্লাহর নাম বা উপাধি হল ”প্রথম এবং শেষ”; কোন সাধারণ নবী কি নিজেকে ”প্রথম এবং শেষ” বলে দাবি করতে পারে?
উত্তর: না, পারে না। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার ঈসা নবী সেই কাজটিই করেছেন।
‘তাঁকে দেখে আমি মরার মত তাঁর পায়ের কাছে পড়ে গেলাম। তখন তিনি (ঈসা) তাঁর ডান হাত আমার উপরে রেখে বললেন, ‘ভয় কোরো না। আমিই প্রথম ও শেষ, আমিই চিরজীবন্ত। আমি মরেছিলাম, আর দেখ, এখন আমি যুগ যুগ ধরে চিরকাল জীবিত আছি। আমার কাছে মৃত্যু ও কবরের চাবি আছে।’
ইঞ্জিল শরীফ সুরা প্রকাশিত কালাম রুকু ১ আয়াত ১৭-১৮
লক্ষ্য করুন, ঈসা এমন একটি উপাধি নিয়েছেন যা শুধুমাত্র আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাহলে ঈসা কে?
প্রশ্ন ২: কে গুনাহ্ মাফ বা ক্ষমা করতে পারে?
“তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।”
কোরআন শরীফ সুরা ইমরান ৩:১৩৫
তোমার (আল্লাহর) বিরুদ্ধে, কেবল তোমারই বিরুদ্ধে আমি গুনাহ্ করেছি আর তোমার চোখে যা খারাপ তা-ই করেছি। কাজেই তোমার রায় ঠিক, তোমার বিচার নিখুঁত।
ওল্ড টেস্টামেন্ট এর জবুর শরীফ রুকু ৫১ আয়াত ৪
“আমি, আমিই আমার নিজের জন্য তোমার অন্যায় মুছে ফেলি; আমি তোমার গুনাহ্ আর মনে আনব না।”
• ওল্ড টেস্টামেন্ট এর নবীদের কিতাব সুরা ইশাইয়া রুকু ৪৩ আয়াত ২৫
প্রশ্ন: আমার বিরুদ্ধে কেউ যদি অন্যায় বা গুনাহ না করে আমি কি তাকে ক্ষমা করতে পারি?
উত্তর: না, পারি না। তাই যে কোন কারো বিরুদ্ধে অন্যায় করার অর্থ হল আল্লাহর বিরুদ্ধে অন্যায় করা। এজন্যই যে কোন গুনাহের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। এবার নিচের অংশটি দেখুন।
কয়েকদিন পরে ঈসা আবার কফরনাহূমে গেলেন। লোকেরা শুনল তিনি ঘরে আছেন। তখন এত লোক সেখানে জমায়েত হল যে, ঘর তো দূরের কথা, দরজার বাইরেও আর জায়গা রইল না। ঈসা লোকদের কাছে আল্লাহ্র কালাম তবলিগ করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন লোক একজন অবশ-রোগীকে তাঁর কাছে নিয়ে আসল। চারজন লোক তাকে বয়ে আনছিল, কিন্তু ভিড়ের জন্য তারা তাকে ঈসার কাছে নিয়ে যেতে পারল না। এইজন্য ঈসা যেখানে ছিলেন ঠিক তার উপরের ছাদের কিছু অংশ তারা সরিয়ে ফেলল। তারপর সেই খোলা জায়গা দিয়ে মাদুর সুদ্ধই সেই অবশ-রোগীকে নীচে নামিয়ে দিল। তারা ঈমান এনেছে দেখে ঈসা সেই অবশ-রোগীকে বললেন, “বাছা, তোমার গুনাহ্ মাফ করা হল।” সেখানে কয়েকজন আলেম বসে ছিলেন। তাঁরা মনে মনে ভাবছিলেন, “লোকটা এই রকম কথা বলছে কেন? সে তো কুফরী করছে। একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া আর কে গুনাহ্ মাফ করতে পারে?” তাঁরা যে ঐ সব কথা ভাবছেন তা ঈসা নিজের অন্তরে তখনই বুঝতে পারলেন। এইজন্য তিনি তাঁদের বললেন, “আপনারা কেন মনে মনে ঐ সব কথা ভাবছেন? এই অবশ-রোগীকে কোন্টা বলা সহজ- ‘তোমার গুনাহ্ মাফ করা হল,’ না, ‘ওঠো, তোমার মাদুর তুলে নিয়ে হেঁটে বেড়াও’? কিন্তু আপনারা যেন জানতে পারেন দুনিয়াতে গুনাহ্ মাফ করবার ক্ষমতা ইবনে-আদমের আছে”- এই পর্যন্ত বলে তিনি সেই অবশ-রোগীকে বললেন, “আমি তোমাকে বলছি, ওঠো, তোমার মাদুর তুলে নিয়ে বাড়ী চলে যাও।” তখনই সেই লোকটি উঠে তার মাদুর তুলে নিল এবং সকলের সামনেই বাইরে চলে গেল। এতে সবাই আশ্চর্য হয়ে আল্লাহ্র প্রশংসা করে বলল, “আমরা কখনও এই রকম দেখি নি।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা মার্ক রুকু ২ আয়াত ১-১২
আশ্চর্য ব্যাপার – ঈসার বিরুদ্ধে সরাসরি গুনাহ না করার পরেও ঈসা লোকটির গুনাহ ক্ষমার কথা বললেন। কিন্তু কেন? যেটি শুধু আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেটি কেন ঈসা নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলেন? তাহলে ঈসা কি আল্লাহ? আসুন আরো দেখি।
প্রশ্ন ৩: কে আমাদের আখেরী রাতে বিচার করবেন?
রাজত্ব সেদিন আল্লাহরই; তিনিই তাদের বিচার করবেন। অতএব যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তারা নেয়ামত পূর্ণ কাননে থাকবে। এবং যারা কুফরি করে এবং আমার আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে তাদের জন্যে লাঞ্ছনাকর শাস্তি রয়েছে।
কোরআন শরীফ সুরা হাজ্জ্ব ২২:৫৬-৫৭
মাবুদ বলছেন, “জাতিদের ডেকে আনা হোক; তারা যিহোশাফটের উপত্যকায় এগিয়ে যাক, কারণ সেখানে আমি চারদিকের সব জাতিদের বিচার করতে বসব।
ওল্ড টেস্টামেন্ট এর নবীদের কিতাব সুরা যোয়েল রুকু ৩ আয়াত ১২
মাবুদ চিরকাল রাজত্ব করেন; তিনি বিচারের সিংহাসন স্থাপন করেছেন। তিনি ন্যায়ভাবে দুনিয়ার বিচার করবেন, সৎ ভাবেই সব জাতিদের শাসন করবেন।
• ওল্ড টেস্টামেন্ট এর জবুর শরীফ ৯ আয়াত ৭-৮
প্রশ্ন: যেহেতু আল্লাহ হচ্ছেন আমাদের সর্বোচ্চ এবং শেষ বিচারকর্তা, তাই কোন সাধারণ নবী কি আখেরী রাতের বিচার করবে সেই কথা বলতে পারে?
উত্তর: না, পারে না। শেষ বিচার আল্লাহ নিজে করবেন। এবার আসুন নিচের আয়াতটি পড়ি।
ইবনে-আদম (ঈসা) সমস্ত ফেরেশতাদের সংগে নিয়ে যখন নিজের মহিমায় আসবেন তখন তিনি বাদশাহ্ হিসাবে তাঁর সিংহাসনে মহিমার সংগে বসবেন। সেই সময় সমস্ত জাতির লোকদের তাঁর সামনে একসংগে জমায়েত করা হবে। রাখাল যেমন ভেড়া আর ছাগল আলাদা করে তেমনি তিনি সব লোকদের দু’ভাগে আলাদা করবেন। তিনি নিজের ডান দিকে ভেড়াদের আর বাঁ দিকে ছাগলদের রাখবেন।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা মথি রুকু ২৫ আয়াত ৩১-৩৩
এর কারণ হল, মসীহের বিচার-আসনের সামনে আমাদের সকলের সব কিছু প্রকাশ করা হবে, যেন আমরা প্রত্যেকে এই শরীরে থাকতে যা কিছু করেছি, তা ভাল হোক বা খারাপ হোক, সেই হিসাবে তার পাওনা পাই।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ২য় করিন্থিয় রুকু ৫ আয়াত ১০
লক্ষ্য করুন – ঈসা তিনি দাবি করছেন তিনি শেষ বিচারের কাজ করবেন এবং কিতাব তার সাক্ষ্য দিচ্ছে। যে কাজটি শুধু মাত্র আল্লাহর, তা কিভাবে ঈসা করবেন? তবে ঈসা কি স্বয়ং আল্লাহ? আসুন কিতাবের আরো কিছু অংশ দেখা যাক।
প্রশ্ন ৪: কে ”সত্য”?
এগুলো এ কারণে যে, আল্লাহ সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
কোরআন শরীফ সুরা হাজ্জ্ব ২২:৬
আমি তোমার হাতেই আমার রূহ্ তুলে দিলাম, কারণ হে আল্লাহ্, সত্য মাবুদ, তুমিই আমাকে মুক্ত করেছ।
ওল্ড টেস্টামেন্ট এর জবুর শরীফ ৩১ আয়াত ৫
প্রশ্ন: ”সত্য” আল্লাহর আরেকটি উপাধি; তিনি কি তার এই উপাধি অন্য কাউকে দিবেন?
উত্তর: না, দিবেন না। যদি না দেন, তবে এবার আসুন আরেকটি আয়াত পড়ি।
ঈসা থোমাকে বললেন, “আমিই পথ, সত্য আর জীবন। আমার মধ্য দিয়ে না গেলে কেউই পিতার কাছে যেতে পারে না।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ইউহোন্না রুকু ১৪ আয়াত ৬
এই পর্যায়ে এসে আপনার কি মনে হচ্ছে না, বিষয়টি অদ্ভুদ থেকে অদ্ভুতর হচ্ছে? ঈসা কেন একের পর এক আল্লাহর নাম, উপাধি ও বৈশিষ্ট নিজের প্রতি প্রয়োগ করেছেন? চলুক, শেষ পর্যন্ত দেখি।
প্রশ্ন ৫: কে মৃতকে জীবন দিতে পারে?
এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।
কোরআন শরীফ সুরা হাজ্জ্ব ২২:৭
মাবুদই মারেন আর মাবুদই বাঁচান; তিনিই কবরে নামান আর তিনিই সেখান থেকে তোলেন। মাবুদই মানুষকে ধনী বা গরীব করেন; হ্যাঁ, তিনিই নীচু করেন আর তিনিই উঁচু করেন।
ওল্ড টেস্টামেন্ট এর সুরা ১ম শামুয়েল রুকু ২ আয়াত ৬-৭
প্রশ্ন: আজ পর্যন্ত আল্লাহ ব্যতীত কি কো মানুষ, জ্ঞান বা বিজ্ঞান মৃত ব্যক্তিকে জীবন দিতে পেরেছে?
উত্তর: না, কখনোই পারেনি। হুম! আসুন দেখি কিতাবে ঈসা কি দাবি করেছেন।
আমি আপনাদের সত্যি বলছি, এমন সময় আসছে, বরং এখনই এসেছে, যখন মৃতেরা ইব্নুল্লাহ্র (ঈসার আরেকটি নাম) গলার আওয়াজ শুনবে এবং যারা শুনবে তারা জীবিত হবে। এর কারণ হল, পিতা নিজে যেমন জীবনের অধিকারী তেমনি তিনি পুত্রকেও জীবনের অধিকারী হতে দিয়েছেন। পিতা পুত্রকে মানুষের বিচার করবার অধিকার দিয়েছেন, কারণ তিনি ইব্ন্তেআদম। এই কথা শুনে আশ্চর্য হবেন না, কারণ এমন সময় আসছে, যারা কবরে আছে তারা সবাই ইব্ন্তেআদমের গলার আওয়াজ শুনে বের হয়ে আসবে। যারা ভাল কাজ করেছে তারা জীবন পাবার জন্য উঠবে, আর যারা অন্যায় কাজ করে সময় কাটিয়েছে তারা শাস্তি পাবার জন্য উঠবে।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ইউহোন্না রুকু ৫ আয়াত ২৫-২৯
ঈসা মার্থাকে বললেন, ‘আমিই পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমার উপর ঈমান আনে সে মরলেও জীবিত হবে।’
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ইউহোন্না রুকু ১১ আয়াত ২৫
এই কথা বলবার পরে ঈসা জোরে ডাক দিয়ে বললেন, “লাসার, বের হয়ে এস।” যিনি মারা গিয়েছিলেন তিনি তখন কবর থেকে বের হয়ে আসলেন। তাঁর হাত-পা কবরের কাপড়ে জড়ানো ছিল এবং তাঁর মুখ রুমালে বাঁধা ছিল। ঈসা লোকদের বললেন, “ওর বাঁধন খুলে দাও আর ওকে যেতে দাও।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ইউহোন্না রুকু ১১ আয়াত ৪৩-৪৪
যদি ঈসা শুধুমাত্র একজন নবী হতেন, তবে কি তিনি মৃত ব্যক্তিকে জীবন দিতে পারতেন বা পুনরুত্থিত করবেন সে কথা বলতে পারতেন? তবে ঈসা আসলে কে? আসুন আরো একটি প্রশ্নের উত্তর দেখি।
প্রশ্ন ৬: আল্লাহ কি তার গৌরব ও মহিমা কারো সাথে ভাগ করেন?
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি শক্তিধর; প্রজ্ঞাময়।
কোরআন শরীফ সুরা হাদীদ ৫৭:১
“আমি মাবুদ, এ-ই আমার নাম। আমি অন্যকে আমার গৌরব দেব না এমনকি কোন মূর্তিকে আমার পাওনা প্রশংসা পেতে দেব না।“
ওল্ড টেস্টামেন্ট এর নবীদের কিতাব সুরা ইশাইয়া রুকু ৪২ আয়াত ৮
প্রশ্ন: এই আয়াতগুলোর সাক্ষ্যানুসারে আল্লাহ কি তার গৌরব ও মহিমা কাউকে দেবেন?
উত্তর: না, কখনোই দেবেন না। আসুন এবার ঈসা আরেকটি দাবি দেখি।
“পিতা, দুনিয়া সৃষ্ট হবার আগে তোমার সংগে আমার যে মহিমা ছিল সেই মহিমা তুমি আবার আমাকে দাও।”
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ইউহোন্না রুকু ১৭ আয়াত ৫
লক্ষ্য করুন – আয়াতটিতে ঈসা বলছেন, দুনিয়া সৃষ্টির আগে তোমার (অর্থাৎ আল্লাহর) সাথে তার যে মহিমা ছিল। হুম… আমরা তো দেখেছি, আল্লাহ কারো সাথে তার মহিমা ভাগ করেন না। তবে ঈসার সাথে কেন? আপনিই তাহলে বলুন, ঈসা আসলে কে?
আসুন ঈসা সম্পর্কে আরো কিছু আয়াত দেখি:
ঈসা বলেছেন যে তিনি মোনাজাতের উত্তর দেন, যা শুধু আল্লাহ করতে পারে।
তোমরা আমার নামে যা কিছু চাইবে তা আমি করব, যেন পিতার মহিমা পুত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। আমার নামে যদি আমার কাছে কিছু চাও তবে আমি তা করব।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ইউহোন্না রুকু ১৪ আয়াত ১৩-১৪
ঈসা বলেছেন যে বেহেশেস্তের ও দুনিয়ার সমস্ত ক্ষমতা তাঁকে দেওয়া হয়েছে।
তখন ঈসা কাছে এসে তাঁদের এই কথা বললেন, “বেহেশতের ও দুনিয়ার সমস্ত ক্ষমতা আমাকে দেওয়া হয়েছে।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা মথি রুকু ২৮ আয়াত ১৮
শেষ একটি বিষয়, আর তা হল – আমরা জানি সমস্ত ইবাদত একমাত্র আল্লাহর। কোন নবী বা মানুষ বা মূর্তি পূজা করা যাবে না। কিন্তু কিতাবের এই আয়াত গুলো লক্ষ্য করুন, যেখানে ঈসাকে ইবাদত করা হয়েছে এবং তিনি তা গ্রহন করেছেন।
তারাটা দেখে পণ্ডিতেরা খুব আনন্দিত হয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকলেন এবং সেই শিশুটিকে তাঁর মা মরিয়মের কাছে দেখতে পেলেন। তখন তাঁরা মাটিতে উবুড় হয়ে সেই শিশুটির ইবাদত করলেন এবং তাদের বাক্স খুলে তাঁকে সোনা, লোবান ও গন্ধরস উপহার দিলেন।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা মথি রুকু ২ আয়াত ১১
ঈসা আর পিতর নৌকায় উঠলে পর বাতাস থেমে গেল। যাঁরা নৌকার মধ্যে ছিলেন তাঁরা ঈসাকে সেজদা করে বললেন, “সত্যিই আপনি ইব্নুল্লাহ্।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা মথি রুকু ১৪ আয়াত ৩২-৩৩
ঈসা গালীলের যে পাহাড়ে সাহাবীদের যেতে বলেছিলেন সেই এগারোজন সাহাবী তখন সেই পাহাড়ে গেলেন। সেখানে ঈসাকে দেখে তাঁরা তাঁকে সেজদা করলেন, কিন্তু কয়েকজন সন্দেহ করলেন।
ইঞ্জিল শরীফ সুরা মথি রুকু ২৮ আয়াত ১৬-১৭
পরে তিনি থোমাকে বললেন, ‘তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর’। তখন থোমা বললেন, ‘প্রভু আমার, আল্লাহ্ আমার।’
ইঞ্জিল শরীফ সুরা ইউহোন্না রুকু ২০ আয়াত ২৭-২৮
লক্ষ্য করুন থোমা ঈসাকে “প্রভু আমার, আল্লাহ আমার” বলে সম্বোধন করেছন এবং ঈসা তাকে বকা দেননি ববং তার ইবাদত গ্রহন করেছেন।
সারকথা:
ঈসা তাহলে কোথায় বলেছেন যে, আমি আল্লাহ আমাকে ইবাদত কর? যেমনটি আমার কিতাবের আয়াতগুলো বিশ্লেষণ করে দেখলাম যে, ঈসা তিনি বলেছেন “তিনি প্রথম ও শেষ; তিনি গুনাহ ক্ষমা করেন; তিনি আমাদের শেষ বিচারক; তিনি সত্য; তিনি পুনরুত্থান এবং তিনি সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহর সাথে গৌরবে ছিলেন; তিনি আমাদের মোনাজাতের উত্তর দেন; তিনি বেহেস্তের ও দুনিয়ার সমস্ত ক্ষমতার মালিক এবং তিনি আল্লাহ হিসেবে ইবাদত গ্রহন করেছেন”।
এগুলো কোন সাধারণ মানুষের দাবি হতে পারে না; এমনকি কোন বড় নবীর দাবিও না। এই দাবিগুলো একমাত্র আল্লাহ করতে পারেন। আর এই সব দাবি যিনি করেন তিনি আর কেউ নন বরং স্বয়ং আল্লাহ। আর এই কারনেই ঈসায়ীরা বা খ্রিষ্টীয়ানরা বিশ্বাস করে ঈসা তিনি আল্লাহ, যিনি আমাদের গুনাহের নাজাতের জন্য এই পৃথিবীতে এসেছেন (ঈসার মধ্যে দিয়ে কিভাবে গুনাহের নাজাত পাওয়া সম্ভব, সেই বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করবেন, আপনাকে জানাব)।
এত কিছু কিতাব থেকে দেখা, পড়া ও জানার পর সিদ্ধান্ত আপনার। আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে আমরা শুনতে চাই! চ্যাটে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

